Breaking

Friday, October 1, 2021

মশার জীবনচক্র এবং মশার প্রকারভেদ

মশা কয় প্রকার কী কী? কোন শ্রেণির মশা কী কী রােগ ছড়ায়?

উত্তরঃ আমাদের দেশে তিন শ্রেণির মশা দেখা যায়। যেমন—
(ক) অ্যানােফিলিস মশা —এই জাতীয় মশকী প্লাসমােডিয়াম ভাইভাক্স নামক এককোষী জীবাণু বহন করে ম্যালেরিয়া রােগ ছড়ায়।
(খ) কিউলেক্স মশা —এই জাতীয় মশা ফাইলেরিয়া রােগ ছড়ায়। ফাইলেরিয়া রােগাক্রান্ত ব্যক্তির রক্তে ফাইলেরিয়া অ্যানােফিলিস জীবাণুর লার্ভা থাকে। এই রােগে আক্রান্ত ব্যক্তির হাত-পা, বিশেষ করে পা দুটি অসমভাবে ফুলে ওঠে। কিউলেক্স মশা ফাইলেরিয়া ছাড়া এনকেফালাইটিস রােগ ছড়ায়।
(গ) এডিস মশা —এই জাতীয় মশা পীতজ্বর ও ডেঙ্গুজ্বরের জীবাণু বহন করে। ডেঙ্গুজুর ভাইরস-ঘটিত রােগ। এডিস মশার দংশনের ফলেই এ রােগ সুস্থ লােকের দেহে সংক্রামিত হয়।

মশার জীবনচক্র সংক্ষেপে বর্ণনা করাে।

উত্তরঃ মশার জীবনে অন্যান্য পতঙ্গের মতাে চারটি দশা দেখা যায়। যেমন— ডিম, শূককীট বা লার্ভা, শূককীট বা পিউপা এবং পূর্ণাঙ্গ অবস্থা। স্ত্রী মশা পরিষ্কার জলে বা নােংরা বদ্ধ জলে ডিম পাড়ে। ডিম ফুটে শূককীট বা লার্ভা বের হয়। পরে শূককীট হতে মূককীট এবং মূককীট থেকে পূর্ণাঙ্গ মশার সৃষ্টি হয়।

বসা দেখে কীভাবে বিভিন্ন মশাকে চেনা যায় ?

উত্তরঃ বসার ভঙ্গী দেখে বিভিন্ন মশাকে চেনা যায়। যেমন, অ্যানােফিলিস মশা জল তলের সঙ্গে সূক্ষ্ম কোণ করে বসে। এডিস প্রায় লম্বভাবে এবং কিউলেক্স মশা জল তলের সঙ্গে সমান্তরালভাবে বসে।

 মশার দ্বারা কীভাবে রােগ সংক্রামিত হয় ?

উত্তরঃ মশকী অর্থাৎ স্ত্রী মশা রােগীর দেহে হুল ফুটিয়ে রক্ত পান করার সময় রক্তের সঙ্গে রােগ জীবাণু গ্রহণ করে। স্ত্রী মশার দেহে ওই রােগ জীবাণু বৃদ্ধি পায় ও বংশবিস্তার করে। তারপর সেই স্ত্রী মশা সুস্থ ব্যক্তিকে কামড়ালে তার দেহে রােগ জীবাণু সংক্রামিত হয়। অল্প কিছুদিনের মধ্যে আক্রান্ত ব্যক্তির দেহে রােগের লক্ষণ প্রকাশ পায়।

কীভাবে মশা ম্যালেরিয়া রােগ ছড়ায়?

উত্তরঃ স্ত্রী অ্যানােফিলিস মশা যখন কোনাে ম্যালেরিয়া রােগাক্রান্ত ব্যক্তিকে কামড়ায় তখন তার রক্তের সঙ্গে কিছু জীবাণুও মশার শরীরে চলে আসে। এগুলি মশার শরীরে বাড়তে থাকে ও মশার লালা গ্রন্থিতে এসে অবস্থান করে। এই মশা যখন কোনাে সুস্থ লােককে কামড়ায় তখন লালার সঙ্গে কিছু জীবাণু ওই সুস্থ ব্যক্তির দেহে প্রবেশ করে ও রােগ ছড়ায়।

 মশা কীভাবে প্রতিরােধ করা যায় ?

উত্তরঃ (i) মশা সাধারণত স্রোতবিহীন বন্ধ অপরিষ্কার জলে ডিম পাড়ে। তাই জলাশয় পরিষ্কার রাখলে মশার বংশবৃদ্ধি হ্রাস পায়।
(ii) মশার লার্ভা শ্বাসকার্যের জন্য জলের উপরে উঠে আসে এবং বায়ুনল দিয়ে সরাসরি বাতাস থেকে বায়ু গ্রহণ করে। এই কারণে জলাশয়ে কেরােসিন তেল ছড়িয়ে দিলে শ্বাসকার্য চালাতে না পেরে লার্ভাগুলাে মারা যায়।
(iii) বন্ধ ঘরে, বাড়িতে বেগন স্প্রে বা কীটনাশক দ্রব্য স্প্রে করে সাময়িকভাবে মশার উপদ্রব হতে অব্যাহতি পাওয়া যায়।
(iv) কোনাে জায়গায় যাতে জল জমতে না পারে সেদিকে বিশেষ সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হয়।
(v) D.D.T. নামক কীটনাশক দিয়ে সরাসরি মশা ধ্বংস করা যায়।
(vi) প্রতিদিন সন্ধ্যায় ঘরে ধূপ-ধূনা দিয়ে মশার আক্রমণ কমানাে যায়।
(vii) যে সব জলাশয়ে মশা ডিম পাড়ে, সেই সব জায়গায় কই, খলসে, তে-চোখা প্রভৃতি মাছ পালন করলে এরা মশার লার্ভা খেয়ে মশার বংশবিস্তারে বাধা দেয়।

মশার বিষয়ে কয়েকটি অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

1. কোন মশা কামড়ালে ম্যালেরিয়া রোগ হয়?
উঃ অ্যানোফিলিস মশা।
2. কোন মশা কামড়ালে ফাইলেরিয়া রোগ হয়?
উঃ কিউলেক্স মশা।
3. কোন মশা কামড়ালে চিকুনগুনিয়া রোগ?
উঃ এডিস মশা।
4. কোন মশা গোদ রোগের জীবাণু বহন করে?
উঃ কিউলেক্স মশা।
5. কিউলেক্স মশা কোন রোগ ছড়ায়?
উঃ ফাইলেরিয়া, গোদ রোগ
6. কোন মশা ওড়ার সময় পো শব্দ হয়?
উঃ অ্যানোফিলিস মশা
7. কোন মশার লার্ভা জলতলের সঙ্গে সমান্তরালভাবে আসে?
উঃ অ্যানোফিলিস মশা।
8. কোন মশা রক্ত পান করে?
উঃ স্ত্রী মশা।
9. ম্যালেরিয়া রোগের জীবাণুর নাম কি?
উঃ ম্যালেরিয়া রোগের জীবাণুর নাম প্লাসমোডিয়াম ভাইভ্যাক্স।
10. ফাইলেরিয়া রোগের জীবাণুর নাম কি?
উঃ ফাইলেরিয়া রোগের জীবাণুর নাম উচেরেরিয়া।

No comments:

Post a Comment

কোন প্রশ্নের উত্তর ভুল থাকলে অবশ্যই কমেন্টে জানাবে ( কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স সময়ের সাথে সাথে উত্তর পরিবর্তন হয়)