Breaking

Monday, June 20, 2022

6/20/2022 08:00:00 PM

নিউটনের মহাকর্ষ সূত্রটি লেখো। নিউটনের মহাকর্ষ সূত্রের গাণিতিক রূপ

নিউটনের মহাকর্ষ সূত্রটি লেখো। নিউটনের মহাকর্ষ সূত্রের গাণিতিক রূপ

নিউটনের মহাকর্ষ সূত্রটি লেখো।

উত্তরঃ মহা বিশ্বের যে কোনো দুটি বস্তু তাদের কেন্দ্র সংযোজককারী সরলরেখা বরাবর পরস্পর পরস্পরকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে। এই আকর্ষণ বলের পরিমাণ বস্তু কণা দুটির ভরের গুণফলের সমানুপাতিক এবং ওদের মধ্যকার দূরত্বের বর্গের ব্যাস্তানুপাতিক।

নিউটনের মহাকর্ষ সূত্রের গাণিতিক রূপ

মনে করি, M ও m ভর বিশিষ্ট দুটি বস্তু পরস্পরকে F বলে আকর্ষণ করছে ওদের মধ্যে দূরত্ব d
এখন দূরত্ব স্থির থাকলে F ∝ M × m যখন d অপরিবর্তিত থাকে ...... (1)
ভর স্থির থাকলে F ∝ 1/d² ; যখন M এবং m অপরিবর্তিত থাকে. ..... (2)
এই G-কে অভিকর্ষীয় ধ্রুবক বলা হয়।
এখন M = m = 1 এবং d = 1 হলে F = G.
অতএব, বলা যায় একক ভরসংখ্যা সম্পন্ন দুই বস্তুর পরস্পর থেকে একক দূরত্বে থাকলে ওদের মধ্যে আকর্ষণ বলকে মহাকর্ষীয় ধ্রুবক বলে। মহাকর্ষীয় ধ্রুবকের মান সি. জি. এস. পদ্ধতিতে 6.6576× 10⁻⁸  ডাইন সেমি²/ গ্রাম²।
S. I. পদ্ধতিতে G-এর মান 6.6575 × 10⁻¹¹ নিউটন-মিটার²/কিলোগ্রাম²।

মহাকর্ষ বলের ওপর বস্তুর ভর ও দূরত্বের প্রভাব আলোচনা করো।

উঃ দুটি বস্তুর ভর M ওm, ওদের মধ্যে দূরত্ব d হলে আকর্ষণ বল
এখন বস্তু দুটির মাঝের দূরত্ব ঠিক রেখে একটি ভর দ্বিগুণ করি (2m) তখন আকর্ষণ বল
আবার বস্তু দুটির মাঝের দূরত্ব ঠিক রেখে দুটিরই ভর দ্বিগুণ করলে তখন আকর্ষণ বল F2 হলে
বস্তু দুটির ভর ঠিক রেখে বস্তু দুটির ভেতরকার দূরত্ব 2 গুণ করলে তখন আকর্ষণ বল F3 হলে
এখন বস্তু দুটির ভর ঠিক রেখে ওদের ভেতরকার দূরত্ব ½ গুণ করলে তখন আকর্ষণ বল F, হলে
আরো পড়ুন-
1. অভিকর্ষ বল কাকে বলে?
2. অভিকর্ষজ ত্বরণ কাকে বলে? অভিকর্ষ তরন ও মহাকর্ষীয় ধ্রুবকের মধ্যে সম্পর্ক

Saturday, June 18, 2022

6/18/2022 10:33:00 PM

জোয়ার ভাটা কাকে বলে? জোয়ার ভাটার কারণ ও ফলাফল

জোয়ার ভাটা কাকে বলে? জোয়ার ভাটার কারণ ও ফলাফল

জোয়ার ভাটা কাকে বলে?

চন্দ্র ও সূর্যের আকর্ষণে প্রতিদিন নিয়মিত ভাবে সমুদ্র জলের একই স্থানে ছন্দময় উত্থানকে জোয়ার এবং পতনকে ভাটা বলে।
পৃথিবীপৃষ্ঠে একই স্থানে প্রতিদিন দুবার জোয়ার ও
দুবার ভাটা হয়।

জোয়ার ভাটার শ্রেণিবিভাগ

জোয়ার-ভাটাকে চারটি ভাগে ভাগ করা হয় যথা-
i) মুখ্য জোয়ার
ii) গৌণ বা পরোক্ষ জোয়ার
iii) ভরা কোটাল
iv)  মরা জোয়ার বা মরা কোটাল

মুখ্য জোয়ার কাকে বলে?

আবর্তনকালে পৃথিবীর যে অংশ চন্দ্রের সর্বাপেক্ষা নিকটবর্তী হয় সেই স্থানে চন্দ্রের সর্বাধিক মাধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রভাবে যে জোয়ার সৃষ্টি হয় তাকে মুখ্য জোয়ার বা চন্দ্র জোয়ার বলে। উভয়ই একটি নির্দিষ্ট ভরকেন্দ্রের চারিদিকে ঘোরে। এই ভরকেন্দ্র ও চন্দ্রের কেন্দ্রবিন্দুর দূরত্ব, পৃথিবী ও চন্দ্রের কেন্দ্রদ্বয়ের মধ্যবর্তী দূরত্ব অপেক্ষা কম হয়। চন্দ্রের মাধ্যাকর্ষণ শক্তি অধিক হওয়ায় প্রবল মুখ্য জোয়ার সংঘটিত হয়।

গৌণ জোয়ার কাকে বলে? 

পৃথিবীর যে অংশে মুখ্য জোয়ার হয় তার ঠিক বিপরীতে অর্থাৎ প্রতিপাদ স্থানে মূলত কেন্দ্রাতিগ বলের প্রভাবে যে জোয়ার হয় তাকে গৌণ জোয়ার বলে। পৃথিবীর ভর কেন্দ্র থেকে গৌণ জোয়ার স্থানের দূরত্ব পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে দূরত্ব অপেক্ষা 4759 কিমি অধিক হওয়ায় ওই স্থানে পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তি খুবই কম। তাই ওই স্থানে পৃথিবীর কেন্দ্রাতিগ বলের প্রভাবেই গৌণ জোয়ার হয়।

ভরা কোটাল কাকে বলে?

আবর্তনকালে পূর্ণিমা ও অমাবস্যা তিথিতে যখন সূর্য, চন্দ্র ও পৃথিবী একই সরলরেখায় অবস্থান করে তখন সমুদ্র-পৃষ্ঠে যে জোয়ারের সৃষ্টি হয় তাকে ভরা কোটাল বলে (তামিল শব্দ ‘কডাল’-এর অর্থ সমুদ্র)। সূর্য, পৃথিবী ও চন্দ্রের একটি সরলরৈখিক অবস্থানের কারণে জোয়ার ও ভাটা প্রবল আকার ধারণ করে। জ্যোতির্বিজ্ঞান অনুযায়ী চন্দ্ৰ, পৃথিবী ও সূর্যের সরলরৈখিক অবস্থানকে সিজিগি (Syzygy) বলে। এই সিজিগি অবস্থানকে দুটি উপবিভাগে ভাগ করা যায়। যথা- (1) সংযোগ ও (2) প্রতিযোগ

মরা কোটাল কাকে বলে?

কৃষ্ণ ও শুক্ল পক্ষের অষ্টমী তিথিতে সূর্য ও চন্দ্র পৃথিবীর সহিত একই সরলরেখায় অবস্থান না করে পরস্পর সমকোণে অবস্থান করে। এইরূপ অবস্থায় পৃথিবী-পৃষ্ঠের যে অংশ চন্দ্রের ঠিক সম্মুখে থাকে চন্দ্রের আকর্ষণে সেখানে মুখ্য জোয়ার এবং যে অংশ সূর্যের সম্মুখে থাকে সেখানেও সূর্যের আকর্ষণে মুখ্য জোয়ার হয়। চন্দ্র ও সূর্যের আকর্ষণী শক্তি পরস্পরের বিপরীতে কাজ করে বলে সমুদ্র-পৃষ্ঠের জল সেইভাবে স্ফীত হয় না। একে মরা জোয়ার বা মরা কোটাল বলে।

জোয়ার ভাটার সময়ের ব্যবধান

পৃথিবী তার মেরুরেখাকে বেষ্টন করে 23 ঘণ্টা 56 মিনিট 48 সেকেন্ডে একবার আবর্তন করে। চন্দ্রের পরিক্রমণ গতি না থাকলে অর্থাৎ চন্দ্র স্থির থাকলে পৃথিবী-পৃষ্ঠের একটি নির্দিষ্ট স্থানে একই নির্দিষ্ট সময়ে মুখ্য জোয়ার সংঘটিত হত। কিন্তু চন্দ্র পৃথিবীর চারিদিকে একবার ঘুরে আসতে সময় লাগায় 27⅓ দিন। অর্থাৎ প্রতিদিনে (360° + 27⅓ দিন) 13°10′14.63" কৌণিক দূরত্ব অতিক্রম করে। ফলে একদিনে ঐ নির্দিষ্ট স্থান থেকে (13°10′14.63″ = 13.17073 × 4 মি) 52 মি 41 সেকেন্ড পথ অতিক্রম করে। সেই কারণে পৃথিবীর কোনো স্থানে মুখ্য জোয়ার সংঘটিত হওয়ার (23 ঘণ্টা 56 মিনিট 48 সেকেন্ড + 52 মিনিট 41 সেকেন্ড) 24 ঘণ্টা 49 মিনিট 29 সেকেন্ড পরে আবার ওই নির্দিষ্ট স্থানে মুখ্য জোয়ার সংঘটিত হবে। মুখ্য জোয়ার ও গৌণ জোয়ারের মধ্যে সময়ের পার্থক্য হবে 12 ঘণ্টা 24 মিনিট 44.5 সেকেন্ড। একটি জোয়ার ও একটি ভাটার জন্য পর্যায়ক্রমে 6 ঘণ্টা 12 মিনিট 22.25 সেকেন্ড সময়ের ব্যবধান হবে।

জোয়ার ভাটার কারণ ব্যাখ্যা করো।

উত্তরঃ প্রধানত দুটি কারণে জোয়ার ভাটা সংঘটিত হয় যথা-
i)পৃথিবীর উপর চন্দ্রের ও সূর্য আকর্ষণ
ii) পৃথিবীর আহ্নিক গতির জন্য
i)পৃথিবীর উপর চন্দ্রের ও সূর্য আকর্ষণঃ
পৃথিবীর উপর চন্দ্র, সূর্যের মিলিত আকর্ষণে জোয়ার-ভাটা হয়। পৃথিবী থেকে সূর্যের দূরত্ব 15 কোটি কিমি এবং পৃথিবী থেকে চন্দ্রের দূরত্ব 3 লক্ষ 80 হাজার কিমি। সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে পৃথিবী, পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে চন্দ্র। সূর্য পৃথিবী থেকে 13 লক্ষ গুণ বড়ো, চন্দ্র পৃথিবীর 1/50 অংশ মাত্র। কিন্তু চন্দ্ৰ পৃথিবীর অনেক কাছে অবস্থিত বলে পৃথিবীর উপর চন্দ্রের মহাকর্ষের প্রভাব সূর্যের মহাকর্ষের তুলনায় অনেক বেশি। সুতরাং চন্দ্রের আকর্ষণেই পৃথিবীতে জোয়ার-ভাঁটা হয়।
পৃথিবীর উপর সূর্যের আকর্ষণ কম হলেও পৃথিবীর জোয়ার-ভাটার উপরও এর প্রভাব আছে।
(ii) পৃথিবীর আহ্নিক গতি প্রভাব : 
পৃথিবী নিজ অক্ষের চারদিকে প্রতিনিয়ত আবর্তন করছে। 24 ঘণ্টায় নিজ অক্ষের চারদিকে একবার ঘোরে। ভূ-পৃষ্ঠের উপর সব বস্তুর উপর পৃথিবীর আহ্নিক গতির জন্য উৎপন্ন অপকেন্দ্র বল কাজ করে। এই জন্য পৃথিবীর উপরে থাকা জলরাশি ওই অপকেন্দ্র বল দ্বারা আকৃষ্ট হয়ে ফুলে উঠে জোয়ার সৃষ্টি করে।

জোয়ার ভাটার ফলাফল

(i) জোয়ারের ফলে নদীতে সমুদ্রের জল ঢোকে ফলে জাহাজ চলাচল করতে পারে। 
(ii) নদীমুখে কোনো আবর্জনা জমলে ভাঁটার টানে ওগুলো সমুদ্রের জলে চলে যায়। 
(iii) সমুদ্রজল লবণাক্ত জোয়ারের সময় ওই লবণাক্ত জল নদীতে প্রবেশ করে। ফলে নদীর জলও লবণাক্ত হয়। ফলে শীত-প্রধান দেশে নদীর জল জমে না। 
(iv) ভাঁটার টানে নদীর পলি মাটি সমুদ্রে চলে যায় ফলে নদীর গভীরতা ঠিক থাকে।
(v) জোয়ার-ভাটায় নদীতে সামুদ্রিক মাছের আনাগোনা জেলেদের জীবনযাত্রাকে নিয়ন্ত্রণ পাশ করে। ভাটার টানে নৌকা ছাড়া এবং জোয়ারের সময় বাড়িফেরা -মৎস্যজীবীদের জীবনের এক ছন্দময় কালক্ষেপ। 
(vi) জোয়ার-ভাটার শক্তিকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।
(vii) জোয়ারের ফলে নদীর স্বাদুজলে লবণের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে তা পানের ও সেচকার্যের অযোগ্য হয়ে ওঠে। 
(viii) জোয়ারে প্রবল বেগে নৌকা, লঞ্চ, ও ছোটো জাহাজের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। প্রবল জোয়ারের সময় নদী পাড়ের ও সমুদ্র উপকূলভাগের কৃষিজমি ও ঘরবাড়ির ভীষণ ক্ষতি হয়।

জোয়ার ভাটা বিষয়ে প্রশ্ন উত্তর

1. পূর্ণিমা অপেক্ষা অমাবস্যার জোয়ার আরও প্রবল হয় কেন?
উঃ অমাবস্যা তিথিতে চন্দ্র ও সূর্য পৃথিবীর একই দিকে এবং একই সরলরেখায় অবস্থান করে। ফলে চন্দ্র ও সূর্যের মিলিত আকর্ষণে পৃথিবী-পৃষ্ঠের জলরাশি প্রবলভাবে স্ফীত হয়। তাই পূর্ণিমার দিন অপেক্ষা অমাবস্যার দিনে জোয়ারের বেগ সর্বাধিক হয়।
2. পূর্ণিমার জোয়ার প্রবল হয় কেন ?
উত্তরঃ পূর্ণিমা তিথিতে পৃথিবী চন্দ্র ও সূর্যের মাঝখানে চলে এসে এক সরলরেখায় থাকে। চন্দ্রের আকর্ষণে পৃথিবীর যে জায়গায় মুখ্য জোয়ার হয় সূর্যের আকর্ষণে সেই জায়গায় গৌণ জোয়ার হয়। ফলে এই জোয়ারে জল স্ফীতি খুব বেশি হয়। এই জন্য পূর্ণিমার জোয়ার প্রবল হয়।
3. দিনে দুবার জোয়ার ভাটা হয় কেন?
উত্তরঃ পৃথিবীর আবর্তনকাল 24 ঘণ্টা। চন্দ্রের আকর্ষণে পৃথিবীর যেয়জায়গায় মুখ্য জোয়ার হয় তার বিপরীত পার্শ্বে গৌণ জোয়ার হয়। 12 ঘণ্টা পর পৃথিবীর গৌণ জোয়ারের স্থান মুখ্য জোয়ারের জায়গায় মুখ্য জোয়ারের স্থান গৌণ জোয়ারের জায়গায় আছে। এই জন্য প্রায় 12 ঘণ্টা অন্তর এক জায়গায় জোয়ার ও এক জায়গায় ভাটা হয়। সুতরাং দিনে দুবার জোয়ার ও দুবার ভাটা হয়।
4. জোয়ার ও ভাটার মধ্যে সময়ের পার্থক্য কত?
উঃ জোয়ার ও ভাটার মধ্যে সময়ের পার্থক্য 6 ঘণ্টা 12 মিনিট 22.25 সেকেন্ড।
5. মরা কটাল কখন হয়?
উঃ মরা কটাল শুক্লা অষ্টমী বা কৃষ্ণ অষ্টমী তিথিতে হয়।
6. মরা কোটাল কোন তিথিতে হয়?
উঃ মরা কটাল শুক্লা অষ্টমী বা কৃষ্ণ অষ্টমী তিথিতে হয়।
7. প্রতিদিন জোয়ার আসার সময় কতটা পিছিয়ে যায়?
উঃ প্রতিদিন জোয়ার আসার সময় 52 মিনিট পিছিয়ে যায়।
8. ভরা কোটাল কখন হয়?
উঃ পূর্ণিমা বা অমাবস্যায় ভরা কটাল হয়।
9. সিজিগি কাকে বলে?
উঃ চন্দ্ৰ, পৃথিবী ও সূর্যের সরলরৈখিক অবস্থানকে সিজিগি (Syzygy) বলে।

আরো পড়ুন-
1. বানডাকা বলতে কী বোঝো? ষাঁড়াষাঁড়ি বান কাকে বলে?
2. সমুদ্রস্রোত উৎপত্তির কারণ ব্যাখ্যা করো।

Friday, June 17, 2022

6/17/2022 07:55:00 PM

ব্যারোমিটার কাকে বলে? ফর্টিন ব্যারোমিটার কি এবং ব্যারোমিটারের সাহায্যে কিভাবে আবহাওয়ার পূর্বাভাস পাওয়া যায়?

ব্যারোমিটার কাকে বলে? ফর্টিন ব্যারোমিটার কি এবং ব্যারোমিটারের সাহায্যে কিভাবে আবহাওয়ার পূর্বাভাস পাওয়া যায়?

ব্যারোমিটার কাকে বলে?

যে যন্ত্রের সাহায্যে কোনো স্থানের বায়ুমণ্ডলীয় চাপ মাপা হয় তাকে ব্যারোমিটার বলে।
বায়ুর চাপ মাপতে ফর্টিন ব্যারোমিটার ব্যবহার করা হয়।

ফর্টিন ব্যারোমিটার

টরিসেলি পরীক্ষার কিছু সংশোধন ও পরিবর্তন করে ফর্টিন ব্যারোমিটার তৈরি করা হয়েছে।

ফর্টিন ব্যারোমিটারের গঠন

(i) ফর্টিন ব্যারোমিটার যন্ত্রে 1 বর্গসেমি প্রস্থচ্ছেদ যুক্ত 1 মিটার লম্বা শক্ত কাচনল নিয়ে নলটিকে শুষ্ক ও বিশুদ্ধ পারদ দিয়ে পূর্ণ করে খোলা মুখটিকে বায়ু নিরুদ্ধভাবে একটি স্যাময় চামড়ার থলির মধ্যে উপুড় করে রাখা হল। 
(ii) বাইরের আঘাতে যাতে কাচনল ও স্যাময় থলি অক্ষত থাকে তার জন্য সমগ্র কাচনল ও স্যাময় চামড়ার থলিটিকে একটি পেতলের নলের মধ্যে ঢেকে রাখা হয়। পেতল নলের উপরের কিছুটা অংশ এমনভাবে কেটে রাখা হয় যাতে নলের ভেতরের পারদ বাইরে থেকে দেখা যায়। পারদতল মাপার জন্য পেতল নলের ওই অংশে মূল ও ভার্নিয়ার স্কেল কাটা থাকে। যার সাহায্যে পারদ শীর্ষের সঠিক মাপ নেওয়া যায়।
(iii) বায়ুর চাপের পরিবর্তনের জন্য কাচনলে পারদের উচ্চতার পরিবর্তন ঘটে ফলে চামড়ার থলিতে পারদতলের পরিবর্তন হয়। সঠিক চাপ মাপার জন্য চামড়ার থলির পারদস্তম্ভের উচ্চতা একটি নির্দিষ্ট উচ্চতায় আনার জন্য থলির নীচে একটি স্ক্রু (S) লাগানো থাকে। পারদ পাত্রের পারদতলের উপর একটি আইভরি পিন এমনভাবে লাগানো থাকে যাতে পিনের অগ্রভাগ সর্বদা স্কেলের শূন্য দাগের সঙ্গে একরেখায় থাকে। চাপ মাপার সময় ত্রুটি (S) ঘুরিয়ে চামড়ার থলির পারদতলকে উঠিয়ে বা নামিয়ে আইভরি পিনের অগ্রভাগের সংস্পর্শে এনে পেতলনলের খোলা জায়গাতে পারদস্তম্ভের উচ্চতার পাঠ নেওয়া হয়।
(iv) সমগ্র যন্ত্রটিকে উপরের আংটা (H)-এর সাহায্যে যন্ত্রটিকে দেওয়ালে ঝুলিয়ে রাখা হয়। একটি হাতল (V)-এর সাহায্যে স্কেলকে ওঠানো-নামানো করা হয়।

ফর্টিন ব্যারোমিটারের কার্যপ্রণালী

(i) যেখানের বায়ুমণ্ডলের চাপ মাপতে হবে সেখানে আংটার সাহায্যে যন্ত্রটিকে খাড়াভাবে ঝুলিয়ে রাখা হয়। (ii) এবার স্ক্রু (S) ঘুরিয়ে পারদ থলির পারদতলকে এমন অবস্থায় আনতে হবে যেন পারদতল আইভরি পিনের অগ্রভাগকে স্পর্শ করে। 
(iii) এ অবস্থায় পারদ থলির পারদতল স্কেলের শূন্য দাগের সঙ্গে মিলে যাবে। এবার মূল স্কেল ও ভার্নিয়ার স্কেলের সাহায্যে পারদস্তম্ভের উচ্চতা নির্ণয় করা হয়। 
(iv) পারদস্তম্ভের উচ্চতা থেকে বায়ুমণ্ডলের
চাপ পাওয়া যায়।

ব্যারোমিটারের সাহায্যে আবহাওয়ার পূর্বাভাস

i) ব্যারোমিটারের পারদত্তয় ধীরে ধীরে নামলে বোঝা যায় বায়ুর চাপ কমছে, বায়ুতে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বাড়ছে। ফলে বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। 
(ii) পারদস্তম্ভ হঠাৎ নীচে নেমে গেলে বোঝা যায় নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়েছে। ফলে ঝড় ওঠার সম্ভাবনা। (iii) ব্যারোমিটারের পারদস্তম্ভ ধীরে ধীরে উপরের দিকে উঠলে বোঝা যায় আবহাওয়া শুষ্ক যাবে। (iv) ব্যারোমিটারের পারদস্তম্ভ হঠাৎ বেড়ে গেলে বোঝা যায় বায়ুতে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ খুব কমে গেছে। প্রবল শুষ্ক বায়ু বইবে।

ব্যারোমিটার বিষয়ে প্রশ্ন উত্তর

1. বায়ুর চাপ মাপার যন্ত্রের নাম কি?
উঃ ব্যারোমিটার।
2.বায়ুর চাপ মাপা হয় কোন এককে?
উঃ পাস্কাল ,মিলিবার ‌
3. বায়ুর চাপ কাকে বলে?
উঃ কোন স্থানের একক ক্ষেত্রফলের উপর বায়ুমণ্ডলের লম্বভাবে যে ওজন পরে তাকে বায়ুমন্ডলের চাপ বলে।
4. প্রতি বর্গ সেন্টিমিটার বায়ুর চাপ কত? 
উঃ প্রায় 0.379 কিলোগ্রাম।
5. ব্যারোমিটারের পারদ স্তম্ভের উচ্চতা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকলে আবহাওয়া কেমন হবে?
উঃ ব্যারোমিটারের পারদ স্তম্ভের উচ্চতা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকলে আবহাওয়া শুষ্ক ও পরিষ্কার থাকবে।
6. ব্যারোমিটারের পাঠ হঠাৎ কমে গেলে কী বোঝা যায়?
উঃ ব্যারোমিটারের পাঠ হঠাৎ কমে গেলে বোঝা যায় নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়েছে ফলে ঝড় ওঠার সম্ভাবনা।
7. ব্যারোমিটারের পাট হঠাৎ বেড়ে গেলে কি হবে?
উঃ বোঝা যায় বায়ুতে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ খুব কমে গেছে। প্রবল শুষ্ক বায়ু বইবে।
8. ব্যারোমিটার আবিষ্কার করেন কে?
উঃ বিজ্ঞানী টরিসেলি।
9. ফর্টিন ব্যারোমিটার কে আবিষ্কার করেন?
উঃ বিজ্ঞানী টরিসেলি।
10. বায়ুশূন্য স্থানে ব্যারোমিটার নিয়ে গেলে কি ঘটবে.বায়ুর চাপ মাপার যন্ত্রের নাম কি?
উঃ বায়ুশূন্য স্থানে বায়ুর চাপ না থাকায় ব্যারোমিটারের নলে পারদ পাত্র থেকে পারদ উপরে উঠবে না।

আরো পড়ুন-
1. টরিসেলির পরীক্ষা বর্ণনা করো।
2. যৌগিক পদার্থ কাকে বলে? যৌগিক পদার্থের বৈশিষ্ট্য গুলি কি কি?
3. পদার্থের অবস্থার পরিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্তর

Wednesday, June 15, 2022

6/15/2022 07:50:00 PM

তেজস্ক্রিয়তা কাকে বলে? তেজস্ক্রিয়তার বৈশিষ্ট্য ও তেজস্ক্রিয়তার ধর্ম

তেজস্ক্রিয়তা কাকে বলে? তেজস্ক্রিয়তার বৈশিষ্ট্য ও তেজস্ক্রিয়তার ধর্ম

তেজস্ক্রিয়তা কাকে বলে?

কয়েকটি বিশেষ ধরনের নিঃসরণ করে ভারী নিউক্লিয়াসগুলি স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভেঙে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে তেজস্ক্রিয়তা বলে।

তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কারের ইতিহাস

1896 খ্রিস্টাব্দে হেনরি বেকারেল তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করেন। হেনরি বেকারেল একদিন পটাশিয়াম সালফেটের একটি টুকরোকে কালো কাগজে মুড়ে ড্রয়ারে রেখেছিলেন। ড্রয়ারে কালো কাগজ মোড়া কয়েকটি ফটোগ্রাফিক প্লেটও ছিল। কয়েকদিন পর তিনি দেখেন ফটোগ্রাফিক প্লেটের উপর কালো দাগ পড়েছে। যদিও তিনি ইউরেনিয়াম যৌগটির টুকরোকে রোদে রেখে উত্তপ্ত করেননি। এ থেকে বেকারেল সিদ্ধান্ত করেন ইউরেনিয়াম ঘটিত যৌগ সর্বদা এক প্রকার ভেদনশক্তি সম্পন্ন রশ্মি বিকিরণ করে। এই রশ্মিকে তেজস্ক্রিয় রশ্মি এবং এই ঘটনাকে তেজস্ক্রিয়তা বলে। এরপর মাদাম কুরী এবং পিয়ের কুরী পিচব্লেণ্ড থেকে পোলোনিয়াম এবং
আরও পরে অত্যাধিক তেজস্ক্রিয় পদার্থ রেডিয়াম আবিষ্কার করেন। 

তেজস্ক্রিয় রশ্মি কাকে বলে?

তেজস্ক্রিয় মৌল থেকে উচ্চভেদন শক্তি সম্পন্ন যে রশ্মি বেরিয়ে আসে তাকে তেজস্ক্রিয় রশ্মি বলে। পরমাণুর নিউক্লিয়াসের গঠনগত পরিবর্তনই এই রশ্মির মূল উৎস।

প্রাকৃতিক তেজস্ক্রিয়তা কী?

ইউরেনিয়াম (₉₂U), থোরিয়াম (₉₀Tu), পোলোনিয়াম (₈₄Po), রেডিয়াম(₈₈Ra) ইত্যাদি ভারী মৌলগুলির পরমাণুর নিউক্লিয়াস স্বতঃস্ফূর্তভাবে অবিরাম গতিতে ভেঙে গিয়ে নতুন মৌলের নিউক্লিয়াসে পরিণত হয় এবং সেইসঙ্গে শক্তিশালী রশ্মির বিকিরণ ঘটায়। এই বিকিরণ ফটোগ্রাফিক প্লেটে বিক্রিয়া ঘটায় ও পাতলা ধাতব পাত ভেদ করতে পারে। তাপ, চাপ, আলোক, তড়িৎচুম্বক বা রাসায়নিক বিক্রিয়া প্রভৃতি বাহ্যিক কারণ এই বিকিরণকে প্রভাবিত করে না।
মৌলগুলি থেকে নিঃসৃত ওই জাতীয় শক্তিশালী রশ্মিকে তেজস্ক্রিয় রশ্মি, ওই রশ্মি নিঃসরণের এই ঘটনাকে প্রাকৃতিক তেজস্ক্রিয়তা বলে। যেসব পদার্থ থেকে ওই রশ্মি বিকিরিত হয় সেই পদার্থগুলিকে প্রাকৃতিক তেজস্ক্রিয় পদার্থ বলে।

তেজস্ক্রিয়তার বৈশিষ্ট্য

তেজস্ক্রিয়তার বৈশিষ্ট্য গুলি হল-
(i) তেজস্ক্রিয়তা হল নিউক্লিয় ঘটনা, এর সঙ্গে নিউক্লিয়াস বহির্ভূত ইলেকট্রনগুলির সম্পর্ক নেই। 
(ii) 83-এর বেশি পারমাণবিক সংখ্যাবিশিষ্ট মৌলগুলির তেজস্ক্রিয়তা দেখা যায়। 
(iii) যে মৌলের পরমাণুর নিউট্রন ও প্রোটন সংখ্যার অনুপাত 1 : 5-এর বেশি হয় সেই মৌলের তেজস্ক্রিয় ধর্ম দেখা যায়। 
(iv) তেজস্ক্রিয়তা হল মৌলের পরমাণুকেন্দ্রক বা নিউক্লিয়াসের অভ্যন্তরীণ ঘটনা। ইলেকট্রনের গঠনের সঙ্গে এর কোনও সম্পর্ক নেই। 
(v) তেজস্ক্রিয়তা হল নিউক্লিয়াসের ভাঙন বা বিঘটন। এই বিঘটনের ফলে একটি মৌল সম্পূর্ণ নতুন রাসায়নিক ও ভৌত ধর্মাবলি বিশিষ্ট নতুন মৌলে রূপান্তরিত হয়।

তেজস্ক্রিয়তার একক 

তেজস্ক্রিয়তার প্রচলিত একক হল কুরি (Curie)। যদি কোনো তেজস্ক্রিয় মৌলের ক্ষেত্রে প্রতি সেকেন্ডে 3.7 x 10⁻¹⁰ টি পরমাণুর ভাঙ্গন ঘটে তবে ওই মৌলের তেজস্ক্রিয়তার মান এক কুরি ধরা হয়। তেজস্ক্রিয়তা পরিমাপের এস. আই. একক বেকারেল

তেজস্ক্রিয় রশ্মিসমূহের ধর্ম

তেজস্ক্রিয় রশ্মির মধ্যে তিন ধরনের বিকিরণ রশ্মি থাকে। এদের আলফা রশ্মি (α-rays), বিটা রশ্মি (β-rays), গামা রশ্মি (γ-rays) বলা হয়। পরীক্ষা দ্বারা জানা যায় আলফা রশ্মি ধনাত্মক আধানযুক্ত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণার স্রোত।
বিটা রশ্মি ঋণাত্মক আধানযুক্ত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণার স্রোত। গামা রশ্মি ক্ষুদ্র তরঙ্গ দির্ঘ্যের তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ।

α, β, γ রশ্মির প্রকৃতি

α কণা :
i) α রশ্মি উচ্চ বেগসম্পন্ন কণার স্রোত।
ii) α ধনাত্মক আধানবিশিষ্ট। ইহার আধান প্রোটনের আধানের দ্বিগুণ। ইহার ভর প্রোটনের ভরের চারগুণ
iii) α কণার ভর হাইড্রোজেন পরমাণু ভরের চার গুণ এবং হিলিয়াম পরমাণুর ভরের সমান ‌। এর সংকেত ⁴₂He⁺⁺
iv) α কণার ভেদন ক্ষমতা অনেক কম।
vi) ইহা ফটোগ্রাফিক প্লেটের উপর ক্রিয়া করে।
β কণা :
i) β রশ্মি হল ঋণাত্মক আধানযুক্ত ইলেকট্রন কণার স্রোত।
ii) β কণার ভর একটি ইলেকট্রন কণার ভরের প্রায় সমান। এর ভেদন ক্ষমতা α কণার ভেদন ক্ষমতার 100 গুণ বেশি। γ কণার ভেদন ক্ষমতার 1/100 অংশ।
γ কণা :
(i) γ রশ্মি আলোকরশ্মির মতো একধরনের তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ।
(ii) ইহার আধান শূন্য।
(iii) γ কণা ভরহীন।
(iv) এর ভেদন ক্ষমতা খুব বেশি। α কণার ভেদন ক্ষমতার 10000 গুণ।
(v) ইহা জীবিত কোশকে ধ্বংস করে।

তেজস্ক্রিয়তা থেকে প্রশ্ন উত্তর

1. তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করেন কে?
উঃ হেনরি বেকারেল
2. ইউরেনিয়ামের তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করেন কে?
উঃ হেনরি বেকারেল।
3. একটি তেজস্ক্রিয় পদার্থের নাম কি?
উঃ ইউরেনিয়াম, থোরিয়াম, রেডিয়াম
4. রেডিয়াম কে আবিষ্কার করেন?
উঃ মাদাম কুরী এবং পিয়ের কুরী।
5. তেজস্ক্রিয়তার একক কি?
উঃ তেজস্ক্রিয়তার এস আই একক বেকারেল।

আরো পড়ুন-
1. তেজস্ক্রিয়তার দূষণের কারণ ও তেজস্ক্রিয়তার দূষণের প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ
2. নিউক্লিয় সংযোজন ও নিউক্লিয় বিভাজন কি?
3. ডায়োড কি? ডায়োড এর গঠন ও কার্য ব্যাখ্যা করো।
4. এক্স রশ্মি কি এবং এর ব্যবহার

Monday, June 13, 2022

6/13/2022 09:16:00 PM

অভিকর্ষজ ত্বরণ কাকে বলে? মহাকর্ষীয় ধ্রুবক ও অভিকর্ষজ ত্বরণের সম্পর্ক

অভিকর্ষজ ত্বরণ কাকে বলে? মহাকর্ষীয় ধ্রুবক ও অভিকর্ষজ ত্বরণের সম্পর্ক

অভিকর্ষজ ত্বরণ কাকে বলে?

অভিকর্ষ বলের টানে কোনো বস্তু বিনা বাধায় নিচের দিকে নামতে থাকলে বস্তুটির বেগ নির্দিষ্ট হারে বাড়তে থাকে। বেগের এই বৃদ্ধির হারকে  অভিকর্ষজ ত্বরণ বলা হয়।
S.I পদ্ধতিতে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান 9.81 মিটার/সেকেন্ড²।

অভিকর্ষজ ত্বরণ এবং মহাকর্ষীয় ধ্রুবকের মধ্যে সম্পর্ক

m ভরের বস্তুটির ক্ষেত্রে F = ma সমীকরণ থেকে পাই যেখানে F- বল , m- ভর, a- ত্বরণ
নিউটনের দ্বিতীয় গতিসূত্রানুসারে আমরা জানি, m ভরের বস্তুটির ওপর F বল প্রযুক্ত হওয়ার ফলে বস্তুটির F-এর অভিমুখে অর্থাৎ ভূকেন্দ্রের দিকে একটি ত্বরণ সৃষ্টি হচ্ছে। অভিকর্ষ বলের প্রভাবে উৎপন্ন এই ত্বরণই হল অভিকর্ষজ ত্বরণ। একে g দিয়ে সূচিত করা হয়।
অতএব, F = mg
আমরা জানি, পৃথিবীর আকর্ষণ বল অর্থাৎ অভিকর্ষ বলের পরিমাণ
যেখানে, F = অভিকর্ষ বল
G= মহাকর্ষীয় ধ্রুবক
M= পৃথিবীর সমস্ত ভর
m= একটি বস্তুর ভর
r= পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে বস্তুর দূরত্ব
অতএব, F = mg এই সমীকরণে অভিকর্ষ বলের F এর মান বসালে পাই,
অর্থাৎ, ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি অবস্থিত কোনো বিন্দুতে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে ওই বিন্দুর দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক
g= GM/r² সমীকরণ থেকে স্পষ্টই বোঝা যায় যে, কোনো স্থানে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান বস্তুর ভরের (m-এর) ওপর নির্ভর করে না। কোনো নির্দিষ্ট স্থানে হালকা বা ভারী সব বস্তুরই অভিকর্ষজ ত্বরণের মান সমান। অর্থাৎ, পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে সমদূরবর্তী স্থানসমূহে g-এর মান একই।
ভূপৃষ্ঠের উপরিস্থিত যে-কোনো বিন্দুর ক্ষেত্রে r = R হয়। ফলে g= GM/r² সমীকরণ থেকে অভিকর্ষজ ত্বরণের ভূপৃষ্ঠস্থ মান পাওয়া যায়,
এটিই হল অভিকর্ষজ ত্বরণ g এবং মহাকর্ষীয় ধ্রুবক G-এর মধ্যে সম্পর্ক

পৃথিবীর সব স্থানে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান সমান নয় কেন?

অভিকর্ষজ ত্বরণ (g) একটি ধ্রুবক রাশি নয়। অভিকর্ষজ ত্বরণের মান বিভিন্ন কারণের জন্য পরিবর্তিত হয়:
1. ভূপৃষ্ঠ উপগোলকাকার (ellipsoidal) হওয়ার জন্য ভূপৃষ্ঠের বিভিন্ন স্থানে g-এর মান বিভিন্ন হয়।
2. ভূপৃষ্ঠ থেকে বিভিন্ন উচ্চতায় g-এর মান বিভিন্ন হয়
3. ভূপৃষ্ঠ থেকে বিভিন্ন গভীরতায় g-এর মান বিভিন্ন হয়
4. পৃথিবীর আহ্নিক গতির জন্য ভূপৃষ্ঠের বিভিন্ন স্থানে g-এর মান বিভিন্ন হয়।

অভিকর্ষ ত্বরণ বিষয়ে প্রশ্ন উত্তর

1. অভিকর্ষজ ত্বরণের মান কোথায় সবচেয়ে কম?
উঃ বিষুবীয় অঞ্চলে
2. অভিকর্ষজ ত্বরণের মান কোথায় সবচেয়ে বেশি?
উঃ মেরু অঞ্চলে
3. অভিকর্ষজ ত্বরণ g এর মান কোথায় কত?
উঃ মেরু অঞ্চলে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান সবচেয়ে বেশি এবং বিষুবীয় অঞ্চলে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান সবচেয়ে কম।
4. চাঁদের অভিকর্ষজ ত্বরণের মান কত?
উঃ চাঁদের অভিকর্ষজ ত্বরণের মান পৃথিবীর অভিকর্ষজ ত্বরণের মানের 1/6 গুণ।
5. Si পদ্ধতিতে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান কত?
উঃ 9.806 m/s² বা 9.8 m/s²
6. Cgs পদ্ধতিতে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান কত?
উঃ 980.6 cm/s²
7. পৃথিবীর কেন্দ্রে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান কত?
উঃ পৃথিবীর কেন্দ্রে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান শূন্য।

আরো পড়ুন -
2. নিউটনের দ্বিতীয় সূত্রটি কি?
3. মহাকর্ষ সূত্রটি কি? মহাকর্ষীয় সূত্রটি ব্যাখ্যা করো।
6/13/2022 01:45:00 PM

প্রশান্তচন্দ্র মহলানবিশ জীবনী

প্রশান্তচন্দ্র মহলানবিশ জীবনী

জন্ম

ভারতে পরিসংখ্যান বিজ্ঞানের জনক অধ্যাপক প্রশান্তচন্দ্র মহলানবিশ 1893 সালের 29 জুন কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। পিতার নাম প্রবোধচন্দ্র মহলানবিশ।

শিক্ষাজীবন

1908 সালে ব্রাহ্মবয়েজ স্কুল থেকে সসম্মানে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে আই. এস. সি. এবং পদার্থবিদ্যায় অনার্স নিয়ে বি. এস. সি. পাশ অধ্যাপক প্রশান্তচন্দ্র মহলানবিশ করে উচ্চশিক্ষার জন্য ইংল্যান্ডে যান। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে 1915 সালে পদার্থবিদ্যায় ও গণিত শাস্ত্রে ট্রাইপস ডিগ্রি নিয়ে দেশে ফিরে আসেন।

কর্মজীবন ও আবিষ্কার 

দেশে ফিরে প্রেসিডেন্সি কলেজের পদার্থবিদ্যার অধ্যাপক রূপে যোগদান করেন। 1945 সালে প্রেসিডেন্সির অধ্যক্ষ হন। তিনি অধ্যাপনার সঙ্গে সঙ্গে পরিসংখ্যান নিয়ে গবেষণা করতে থাকেন। তাঁর চেষ্টায় ও উদ্যোগে বরাহনগরে ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিসটিক্যাল ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠিত হয়। গবেষণা করতে করতে পরিসংখ্যান বিজ্ঞানের নতুন শাখা মহলানবিশ ডিসট্যান্স নামে একটি শাখা আবিষ্কার করেন। তাঁর পৃথিবীর আবহাওয়া ও নদী পরিকল্পনার উপর গবেষণা তাকে পৃথিবী বিখ্যাত করে তোলে। ভারতের দ্বিতীয় পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় তাঁর বিশেষ অবদান ছিল। তিনি প্রথম কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাশি বিজ্ঞান বিভাগ খোলেন। 1944 সালে ওয়েলডন পুরস্কার পান। 1945 সালে F.R.S. হন। 1968 সালে ভারত সরকার তাঁকে পদ্মবিভূষণ সম্মানে ভূষিত করেন।

মৃত্যু

1972 সালের 28 জুন এই মহান বিজ্ঞানীর জীবনাবসান ঘটে।

আরো পড়ুন-
1. আচার্য জগদীশচন্দ্র বসুর জীবনী
2. আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের জীবনী
3. চন্দ্রশেখর ভেঙ্কট রমন এর জীবনী
4. সত্যেন্দ্রনাথ বসুর জীবনী

Sunday, June 12, 2022

6/12/2022 02:27:00 PM

অভিকর্ষ কাকে বলে? অভিকর্ষ না থাকলে কী হত?

অভিকর্ষ কাকে বলে? অভিকর্ষ না থাকলে কী হত?

অভিকর্ষ কাকে বলে?
ভূপৃষ্ঠে বা ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি অবস্থিত কোনো বস্তুকে পৃথিবী যে বল দ্বারা আকর্ষণ করে তাকে অভিকর্ষ বলা হয়।
এই অভিকর্ষের ফলেই ভূপৃষ্ঠের কিছুটা ওপর থেকে কোনো বস্তুকে ছেড়ে দিলে বস্তুটি ভূপৃষ্ঠের দিকে গতিশীল হয়। স্পষ্টতই অভিকর্ষ মহাকর্ষের একটি বিশেষ রূপমাত্র।

মনে করা যাক, পৃথিবীর ভর = M, ব্যাসার্ধ = R এবং পৃথিবীর কেন্দ্র O থেকে দূরত্বে m ভরের একটি বস্তু আছে পৃথিবীকে R ব্যাসার্ধের সমসত্ত্ব গোলক হিসেবে ধরে নিলে পৃথিবীর সমস্ত ভর M তার কেন্দ্রে কেন্দ্রীভূত আছে বলে ধরা যেতে পারে। তাহলে মহাকর্ষ সূত্রানুসারে বস্তুটির ওপর পৃথিবীর আকর্ষণ বল, অর্থাৎ অভিকর্ষ বলের পরিমাণ,
F= GMm/r²
যেখানে, F = অভিকর্ষ বল
G= মহাকর্ষীয় ধ্রুবক
M= পৃথিবীর সমস্ত ভর
m= একটি বস্তুর ভর
r= পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে বস্তুর দূরত্ব
নিউটনের দ্বিতীয় গতিসূত্রানুসারে বলা যায়, m ভরের বস্তুটির ওপর F বল প্রযুক্ত হওয়ার ফলে বস্তুটির F-এর অভিমুখে অর্থাৎ ভূকেন্দ্রের দিকে একটি ত্বরণ সৃষ্টি হচ্ছে। অভিকর্ষ বলের প্রভাবে উৎপন্ন এই ত্বরণই হল অভিকর্ষজ ত্বরণ। একে g দিয়ে সূচিত করা হয়।
SI তে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান 9.8 m/s²
অভিকর্ষ না থাকলে কী হত?
উত্তরঃ (i) অভিকর্ষ না থাকলে বস্তুর ভার শূন্য হত।
(ii) বস্তুকে উপরের দিকে ছুঁড়ে দিলে সে আর ফিরে আসত না।
(iii) ভূ-পৃষ্ঠের উপর চলাফেরা করা যেত না। একবার লাফ দিলে আর নীচে নামা যেত না।
(iv) অভিকর্ষ বলের টানে পৃথিবীর জলরাশি ও বায়ুমণ্ডল পৃথিবীকে ঘিরে আছে। অভিকর্ষ না থাকলে বায়ুমণ্ডল বিলীন হয়ে যেত, জলরাশি ও বাষ্পীভূত হয়ে উঠে যেত আর ফিরে আসত না। ফলে পৃথিবীতে জীবের অস্তিত্ব থাকত না। অভিকর্ষের অভাবে বস্তুর ভার শূন্য হত ফলে গাছের ফল পাড়লে উহা নীচে পড়ত না।

আরো পড়ুন -
2. মহাকর্ষ সূত্র টি কি? মহাকর্ষ সূত্রের গাণিতিক রূপটি লেখ।
3. পতনশীল বস্তুর সূত্র গুলি কি?
4. নিউটনের দ্বিতীয় গতি সূত্রটি কি?
6/12/2022 08:16:00 AM

বায়ু দূষণ প্রতিরোধের উপায়

বায়ু দূষণ প্রতিরোধের উপায় গুলি আলোচনা করো।
উঃ বায়ুদূষণ একেবারে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না। তবে একে বিভিন্ন উপায়ে প্রতিরোধ করা যেতে পারে
বায়ুদূষণ নিম্নলিখিতভাবে প্রতিরোধ বা নিয়ন্ত্রণ করা যায়—
(i) বায়ুতে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ কমানোর জন্য বনাঞ্চল বাড়াতে হবে, বেশি গাছ লাগাতে হবে। গাছ বায়ু থেকে CO₂ শোষণ করে খাদ্য তৈরি করবে এবং অক্সিজেন ত্যাগ করবে। বনসম্পদ ধ্বংস না করে জ্বালানির ব্যবহার কমাতে হবে। গাছ বায়ুদূষণকারী অনেক গ্যাসকে শোষণ করে। গাছের পাতা তার দু'পাশে অনেক সূক্ষ্ম কণা ও ধূলিকণা প্রচুর পরিমাণে জমিয়ে রেখে বায়ুকে দূষণ থেকে রক্ষা করে। 
(ii) কারখানায় কম সালফারযুক্ত জ্বালানি ব্যবহার করতে হবে। জ্বালানি হিসেবে কয়লার ব্যবহার কমিয়ে প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার বেশি করতে হবে। 
(iii) কলকারখানায় উৎপাদন পদ্ধতি পরিবর্তন বা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে বা নতুন পদ্ধতি চালু করতে হবে। 
(iv) যানবাহনে পুরোনো ইঞ্জিন বাতিল বা সংস্কার করতে হবে যাতে বায়ুদূষণ কমে। 
(v) সাইক্লোটন সেপারেটার দিয়ে ধোঁয়া জাতীয় বায়ুদূষক থেকে কণাগুলোকে বিচ্ছিন্ন করতে হবে। 
(vi) চুল্লি থেকে কণা জাতীয় পদার্থ যাতে সরাসরি বাতাসে আসতে না পারে তার জন্য বিভিন্ন ধরনের ফিল্টার ব্যবহার করতে হবে। 
(vii) সিমেন্ট শিল্পে, কাগজ শিল্পে, তেল শোধনাগারে ইলেকট্রোস্ট্যাটিক প্রেসিপিটার যন্ত্র ব্যবহার, সাইক্লোন সেপারেটর ব্যবহার করতে হবে। 
(viii) কলকারখানার বর্জ্য পদার্থগুলো যাতে বায়ুর সঙ্গে মিশতে না পারে তার ব্যবস্থা করতে হবে। 
(ix) কলকারখানাগুলোকে লোকালয় থেকে দূরে রাখতে হবে। 
(x) কৃষিকার্যে কীটনাশকের ব্যবহার কমাতে হবে। 
(xi) দূষণ সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে হবে। 
(xii) উপযুক্ত আইন প্রণয়ন করতে হবে।

আরো পড়ুন-

Friday, June 10, 2022

6/10/2022 07:19:00 PM

তোমার প্রিয় বিজ্ঞানী রচনা (মেঘনাদ সাহা)

তোমার প্রিয় বিজ্ঞানী রচনা (মেঘনাদ সাহা)

‘বিশ্ববিজ্ঞানে এক নতুনের হাওয়া,
বাঙালি-বিজ্ঞানী মেঘনাদ সাহা।'  
ভূমিকা: দৈন্যপীড়িত এক পরিবারে জন্ম নিয়ে যিনি বিশ্ববিজ্ঞানের মহাকাশে মন্ত্রধ্বনিতে বিশ্ববাসীকে সচকিত করেছেন—তিনিই বাঙালি বিজ্ঞানী মেঘনাদ সাহা। বিশ্ববিজ্ঞান পরিমণ্ডলের তিনি ছিলেন এক অগ্রণী সদস্য। একবিংশ শতাব্দীতেও তাঁর ত্যাগ, আদর্শ ও বিজ্ঞান চিন্তা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয়। বলা বাহুল্য, তিনি বাঙালির গর্ব, বাঙালির অহংকার।
মেঘনাদের শৈশব ও প্রতিভার বিকাশ:
বিজ্ঞান-তপস্বী মেঘনাদ সাহা অবিভক্ত বাংলার ঢাকা জেলার বিক্রমপুরে ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দের ৬ই অক্টোবর এক দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। দারিদ্র্যের মধ্যেই মেঘনাদ লালিতপালিত হন। তাঁর মেধা ও বুদ্ধিবৃত্তিকে কোনো অভাব অনটন গ্রাস করতে পারেনি। ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দে তিনি অত্যন্ত কৃতিত্বের সঙ্গে প্রথম স্থান লাভ করে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। তৎকালীন শিক্ষাতীর্থ প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে অঙ্কশাস্ত্রে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন এবং ১৯১৫ খ্রিস্টাব্দে ফলিত গণিত শাস্ত্রে তিনি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পান। শিক্ষা ও সাধনায় এই মহাবিজ্ঞানী ছিলেন সরস্বতীর সাক্ষাৎ বরপুত্র।
গবেষণা : সাধনা ও সিদ্ধিঃ 
‘বাংলার বাঘ’ আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের ছত্রছায়ায় এম. এস-সি. পাস করার পরই মেঘনাদ সাহা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা শুরু করেন। তাঁর সুপ্ত বাসনার একটা কোরক সেদিন সবে প্রস্ফুটিত হল। ১৯১৮ খ্রিস্টাব্দে গবেষণা করে ডক্টরেট ডিগ্রি এবং পরের বছরই কৃতি গবেষক হিসেবে তিনি ‘প্রেমচাঁদ-রায়চাঁদ’ বৃত্তিপ্রাপ্ত হন। বঙ্গজননীর সুসন্তান অবশেষে উচ্চতর গবেষণার জন্য বিদেশে গমন করেন এবং একে একে বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণাপত্র প্রকাশ করে বিশ্ববিজ্ঞান চিন্তার ক্ষেত্রে নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেন। বাঙালির গর্ব মেঘনাদ সাহা বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী আইনস্টাইন, গ্রোটিয়ান, প্ল্যাঙ্ক প্রমুখ মহান ব্যক্তিদের সান্নিধ্যে আসেন এবং তাঁর জীবিতকালেই বিশ্বের বারো জন বিজ্ঞানীর মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী রূপে স্বীকৃতি পান।
আবিষ্কার ও স্বীকৃতিঃ
ডঃ সাহার অবিস্মরণীয় কীর্তি হল, জ্যোতিপদার্থ বিজ্ঞান। বর্তমানে 'নিউক্লিয়ার ফিজিক্স’ নামে পরিচিত এই বিশ্ব-বিজ্ঞান ক্ষেত্রে যে বিষয়কে কেন্দ্র করে বিজ্ঞানী সাহার খ্যাতি জগৎজোড়া, সেগুলো হল,—তাপগতিতত্ত্ব, পরমাণু বিজ্ঞান, বর্ণালী বিজ্ঞান প্রভৃতি। বর্তমান শতাব্দীর বিজ্ঞানাকাশে ‘তাপীয় আয়নন তত্ত্ব’ মেঘনাদ সাহার অভিনব সংযোজন। পারমাণবিক গবেষণার ক্ষেত্রে মেঘনাদ সাহা প্রতিষ্ঠিত ‘সাহা ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার ফিজিক্স’ কেন্দ্রটি সমস্ত বিশ্বে বিশিষ্ট মর্যাদালাভে সক্ষম হয়েছে।
মানবকল্যাণঃ
আণবিক শক্তিকে দুটো বিশ্বযুদ্ধ যখন ধ্বংসের কাজে ব্যবহার করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিদ্যায় কলঙ্ক লেপন করেছিল, ঠিক সেই সময় ডঃ সাহা আণবিক শক্তিকে মানব কল্যাণে নিয়োজিত করেন। তাঁর সাধনায় পরবর্তীকালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘সাইক্লোট্রোন যন্ত্র’ গবেষণার নতুন যুগের সূত্রপাত ঘটায়। ইউরোপ-আমেরিকার জড়বিজ্ঞান সাধনা যে উন্মত্ততা প্রদর্শন করেছে, ডঃ মেঘনাদ সাহা তার অসারতা প্রমাণ করেছেন নিজ ধী-শক্তি ও পাণ্ডিত্যের মাধ্যমে।
ভারতীয়তাবোধঃ
মেঘনাদ সাহা হলেন বিশ্ববিজ্ঞান সাধনার এক অনন্য প্রতিভাধর সাধক। তিনি তাঁর প্রতিভার দ্বারা প্রচুর অর্থবিত্ত সঞ্চয় করতে পারতেন। বিজ্ঞান ভাবনাকে তিনি ব্যবসার সামগ্রী করতে চাননি বলে, আজ সকল শ্রেণির মানুষের কাছে তিনি শ্রদ্ধার্হ। তিনি সর্বজনের নমস্য। মানব কল্যাণের
জন্য তিনি নিজেকে নিয়োজিত করেছিলেন সম্পূর্ণরূপে। ভারতবর্ষের সীমাহীন দারিদ্র্য তাঁর গবেষণায় বিঘ্ন ঘটিয়েছে সন্দেহ নেই, তবুও তিনি বিন্দুমাত্র বিচলিত হননি, হতাশ হননি। বরং ভারতের লুপ্ত ও মৃত বিজ্ঞান সাধনায় নতুন প্রাণ সঞ্চার করে বিশেষ গতিপ্রবাহ দান করেন।
মহাজীবনের পরিসমাপ্তিঃ
ভারতবর্ষে বৈদিক যুগ থেকে যে বিজ্ঞান সাধনা চলে আসছে, সেই ধারাকে অক্ষুণ্ন রাখতে যাঁদের অবদান অপরিসীম, তাঁদের মধ্যে ডঃ মেঘনাদ সাহা হলেন অন্যতম। ভারতীয় বিজ্ঞান-মঞ্চের তিনি ভগীরথতুল্য ব্যক্তিত্ব। ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দের ১৬ই ফেব্রুয়ারি দিল্লিতে এই মনীষীর আকস্মিক জীবনাবসান ঘটে। দীর্ঘদিনের মন্ত্রসাধনায় তিনি যেমন সিদ্ধিলাভ করে সিদ্ধপুরুষ হয়েছিলেন, তেমনি তাঁর দেহাবসানে বিজ্ঞান গবেষণায় নেমে আসে নিদারুণ শূন্যতা ও শোকের ছায়া। কিন্তু, ‘কীৰ্ত্যিযস্য সঃ জীবতি’। সুতরাং কীর্তি ও সর্বজনের শ্রদ্ধার স্বীকৃতির মাধ্যমেই তিনি অমরত্বের আসনে চিরপ্রতিষ্ঠিত এবং ওই যারা দিনরাত্রি আলো হাতে চলিয়াছে আঁধারের যাত্রী’—বিশ্ববিজ্ঞানী মেঘনাদ সাহা হলেন তাঁদের পথপ্রদর্শক।
এই রচনার তথ্য থেকে আরও যে যে প্রবন্ধ লেখা যায়, সেগুলি হল : 
1. তোমার প্রিয় এক বিজ্ঞানী রচনা
2. আধুনিক কালের এক শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী রচনা
3. একজন শ্রেষ্ঠ বাঙালি বিজ্ঞানী প্রবন্ধ রচনা
4. একজন বাঙালি বিজ্ঞানী রচনা

আরো পড়ুন-

Wednesday, June 8, 2022

6/08/2022 11:30:00 AM

সমুদ্রস্রোত কাকে বলে? সমুদ্রস্রোত সৃষ্টির কারণ

সমুদ্রস্রোত কাকে বলে? সমুদ্রস্রোত সৃষ্টির কারণ

সমুদ্রস্রোত কাকে বলে?

সমুদ্রের উপরিভাগে একমুখী প্রবহমান জলরাশিকে সমুদ্রস্রোত বলে। 

সমুদ্রস্রোত সৃষ্টির কারণ

নিয়ত বায়ুপ্রবাহ, পৃথিবীর আবর্তন গতি, সমুদ্র জলের ঘনত্ব, উষ্মতা ও লবণতার পার্থক্যই সমুদ্রস্রোত সৃষ্টির অন্যতম কারণ। উপকূলের প্রকৃতি, সমুদ্রের তলদেশে শৈলশিরার অবস্থান, প্রবাহ অভিমুখে দ্বীপের অবস্থান প্রভৃতি সমুদ্রস্রোতের দিক পরিবর্তনের অন্যতম কারণ। সমুদ্রস্রোত সৃষ্টির প্রধান প্রধান কারণগুলি নিচে আলোচনা করা হল –
(1) বায়ু প্রবাহ : সারা বছর ধরে নিয়ত বায়ু একই দিকে প্রবাহিত হয়। ফলে সমুদ্র-পৃষ্ঠের জলরাশিও একই দিকে তাড়িত হয়ে সমুদ্রস্রোতের সৃষ্টি করে। উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব আয়ন বায়ু প্রবাহিত হওয়ার ফলে নিরক্ষীয় সমুদ্রস্রোত সৃষ্টি হয়। আবার পশ্চিমা বায়ুর প্রভাবে সমুদ্রস্রোত উত্তর গোলার্ধে উত্তর-পূর্ব দিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়। মেরু অঞ্চলে সমুদ্রস্রোত বায়ুপ্রবাহকে অনুসরণ করে।
(2) পৃথিবীর আবর্তন গতি : পৃথিবী পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে অনবরত ঘুরে চলেছে। এই ঘূর্ণনের জন্য বায়ুর মতো সমুদ্রস্রোতেরও গতি বিক্ষেপ ঘটে। ফেরেলের সূত্র অনুযায়ী উত্তর গোলার্ধে ডান দিকে ও দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে বেঁকে যায়।
(3) সমুদ্র জলের উষ্মতার তারতম্য : সমুদ্র-পৃষ্ঠের সর্বত্র সূর্যরশ্মির পতন কোণ সমান হয় না। নিরক্ষীয় অঞ্চলে এটা প্রায় সমকোণে এবং মেরু অঞ্চলে তীর্যকভাবে পতিত হয়। ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠ সর্বত্র সমান ভাবে উত্তপ্ত হয় না। নিরক্ষীয় অঞ্চল অধিক উত্তপ্ত হওয়ায় এই অঞ্চলের উষ্ম জল আয়তনে বর্ধিত হয়ে বহিঃস্রোত রূপে শীতল মেরু প্রদেশের দিকে প্রবাহিত হয় এবং শীতল মেরু অঞ্চল থেকে অপেক্ষাকৃত শীতল ঘন জল সমুদ্র পৃষ্ঠের তলদেশ দিয়ে অন্তঃস্রোত রূপে নিরক্ষীয় অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়।
(4) সমুদ্র জলের লবণতা ও ঘনত্বের তারতম্য : সমুদ্র জলের লবণতা ও ঘনত্ব সর্বত্র সমান নয়। অধিক লবণাক্ত জল ঘন ও ভারী হওয়ার জন্য অন্তঃস্রোত রূপে কম লবণাক্ত জলের দিকে প্রবাহিত হয় এবং কম লবণাক্ত জল হালকা হওয়ায় বহিঃস্রোতরূপে বেশি লবণাক্ত জলের দিকে প্রবাহিত হয়ে সমুদ্রস্রোতের সৃষ্টি করে। সমুদ্র জলের ঘনত্ব ও লবণতার তারতম্য সমুদ্র স্রোত সৃষ্টির আর একটি কারণ।
(5) বিভিন্ন সমুদ্র স্রোতের মিলন : বিভিন্ন সমুদ্র স্রোতের মিলন স্থলেও নতুন স্রোতের সৃষ্টি হয়। তবে এদের বিস্তার কম।
(6) উপকূলের রূপরেখা ও সমুদ্র তলের প্রকৃতি : মহাদেশের উপকূলভাগ ও দ্বীপসমূহে সমুদ্রস্রোত প্রতিহত হয়ে দিক পরিবর্তন করে। সমুদ্র বক্ষে শৈলশিরার অবস্থানও সমুদ্র স্রোতের গতি বিক্ষেপের অন্যতম কারণ।

আরো পড়ুন-
2. ভূমিকম্পের কারণ ও ফলাফল আলোচনা করো।
3. আটলান্টিক মহাসাগরীয় স্রোত কি?
4. ভারত মহাসাগরীয় স্রোত এর বৈশিষ্ট্য গুলি আলোচনা করো।
5. জোয়ার-ভাটা কি? জোয়ার ভাটার কারণ ও ফলাফল আলোচনা করো