শব্দ কাকে বলে? শ্রুতিগোচর , শব্দেতর , শব্দোত্তর শব্দ কাকে বলে? উদাহরণ দাও এবং শব্দ তরঙ্গের বৈশিষ্ট্য

শব্দ কাকে বলে? শ্রুতিগোচর , শব্দেতর , শব্দোত্তর শব্দ কাকে বলে?

শ্রুতিগোচর শব্দ কাকে বলে


শব্দ কাকে বলে?

কম্পনশীল কোনো বস্তু থেকে উৎপন্ন যে শক্তি জড় মাধ্যমের মধ্য দিয়ে তরঙ্গরূপে আমাদের কানে পৌঁছায় এবং মস্তিষ্কে শ্রবণের অনুভূতি সৃষ্টি করে, তাকে শব্দ বলে।

শব্দের উৎস

যে কোনো কম্পনশীল বস্তুই হল শব্দের উৎস। শব্দের উৎসকে স্বনক বলে। স্বনক কঠিন, তরল ও গ্যাসীয় হতে পারে। যেমন, বেহালার তার টেনে ছেড়ে দিলে, পুকুরের জলে একটি পাথর ফেললে কিংবা বাঁশিতে ফুঁ দিলে শব্দের সৃষ্টি হয়। এখানে বেহালার কম্পমান তার, পুকুরের জলের কম্পন, বাঁশির ভেতরের কম্পমান বাতাস প্রভৃতি হল শব্দের উৎস বা স্বনক। আমরা যখন কথা বলি তখন আমাদের গলার স্বরযন্ত্রে থাকা দু'টি পাতলা পর্দার কম্পনের ফলে শব্দ উৎপন্ন হয়। পশু-পাখির ডাক, বাজপড়া প্রভৃতি শব্দের প্রাকৃতিক উৎস।

শ্রুতিগোচর শব্দ কাকে বলে?

স্বনকের কম্পন সেকেন্ডে 20 থেকে 20000-এর মধ্যে হলে আমরা সেই শব্দকে শুনতে পাই। এই রকম শব্দকে শ্রুতিগোচর শব্দ বলে।

শব্দেতর শব্দ কাকে বলে?

কোনো শব্দের কম্পন সেকেন্ডে 20-এর কম হলে সেই শব্দ আমরা শুনতে পাই না। সেই শব্দকে শব্দেতর শব্দ বলে। 

শব্দেতর শব্দের উদাহরণ 

হাত পাখা নাড়ার শব্দ শোনা যায় না।

শব্দোত্তর শব্দ কাকে বলে?

স্বনকের কম্পন সেকেন্ডে 20,000-এর বেশি হলে সেই শব্দ আমরা শুনতে পাই না। এই শব্দকে শব্দোত্তর শব্দ বলে। 

শব্দোত্তর শব্দের উদাহরণ

পানীয় জল, দুধ ইত্যাদি জীবাণুমুক্ত করতে এবং সমুদ্রে মাছের ঝাঁকের অবস্থান নির্ণয়ের জন্য শব্দোত্তর শব্দ ব্যবহার করা হয়।

শব্দের বিস্তার কাকে বলে?

স্বনক থেকে সৃষ্ট শব্দ কোনো জড় মাধ্যমকে অবলম্বন করে তরঙ্গের আকারে ছড়িয়ে পড়াকে শব্দের বিস্তার বলে। শূন্য মাধ্যমে মধ্য দিয়ে শব্দ চলাচল করতে পারে না।

শব্দতরঙ্গের বৈশিষ্ট্যসমূহ

1. শব্দ যে-কোনো জড় (গ্যাসীয়, তরল বা কঠিন) মাধ্যমের মধ্য দিয়েই অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গের আকারে বিস্তার লাভ করে এবং শব্দের বিস্তারের সময় মাধ্যমের কণাগুলির কোনো স্থানচ্যুতি ঘটে না।
2. শব্দের ক্ষেত্রে প্রতিফলন, প্রতিসরণ, ব্যতিচার (interference), অপবর্তন (diffraction) প্রভৃতি ধর্মগুলি দেখা যায়।
3. শব্দ অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ। তাই শব্দের সমবর্তন (polarization) হয় না।
4. কোনো কম্পনশীল বস্তুর একটি সম্পূর্ণ কম্পনের জন্য জড় মাধ্যমে একটি ঘনীভবন ও একটি তনুভবনের সৃষ্টি হয়। তাই এই দুইয়ের সমন্বয়ে উৎপন্ন তরঙ্গই হল একটি সম্পূর্ণ তরঙ্গ। ঘনীভবন ও তনুভবনের সম্মিলিত দৈর্ঘ্যই হল শব্দতরঙ্গের তরঙ্গদৈর্ঘ্য।
5. শব্দতরঙ্গের কম্পাঙ্ক হল কম্পনশীল উৎসের কম্পাঙ্কের সমান।
6. যে-কোনো জড় মাধ্যমের মধ্য দিয়ে শব্দতরঙ্গের বিস্তার লাভের জন্য কিছুটা সময় লাগে। তাই বলা যায়, শব্দের নির্দিষ্ট বেগ আছে। বিভিন্ন মাধ্যমে শব্দের বেগ বিভিন্ন। আবার, মাধ্যম না পালটে যদি মাধ্যমের উন্নতা পরিবর্তন করা হয় তাহলেও শব্দের বেগ পরিবর্তিত হয়।

মশা উড়লে তার ডানার কম্পনের শব্দ শোনা যায়, কিন্তু পাখি উড়লে তার শব্দ শোনা যায় না কেন?

মশা উড়লে তার ডানার কম্পন সেকেন্ডে 20 থেকে 20,000-এর মধ্যে থাকে। এই কারণে মশা উড়লে তার ডানার কম্পন আমরা শুনতে পাই। কিন্তু পাখি উড়লে তার ডানার কম্পন সেকেন্ডে 20-এর কম হওয়ায় আমরা পাখির ডানার শব্দ শুনতে পাই না।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url