শ্বসন কাকে বলে? শ্বসনের গুরুত্ব ও শ্বসনের কাজ এবং শ্বসন প্রশ্ন উত্তর

শ্বসন কাকে বলে? শ্বসনের গুরুত্ব ও শ্বসনের কাজ এবং শ্বসন প্রশ্ন উত্তর

শ্বসন কাকে বলে?

যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় কোশস্থিত খাদ্যবস্তু জারিত হয়ে খাদ্যস্থ স্থৈতিশক্তি গতি বা তাপশক্তিতে রূপান্তরিত ও মুক্ত হয় এবং কার্বন ডাইঅক্সাইড ও জল উৎপন্ন হয়, তাকে শ্বসন বলে।

শ্বসনের রাসায়নিক সমীকরণ

শ্বসনের সময় কোশস্থিত খাদ্যবস্তু অর্থাৎ গ্লুকোজ ( C₆H₁₂O₆ ) অক্সিজেনের উপস্থিতিতে জারিত হয়ে কার্বন-ডাই-অক্সাইড, জল এবং শক্তি উৎপন্ন করে। অতএব, শ্বসনের রাসায়নিক সমীকরণটি হল-
                            উৎসেচক
C₆H₁₂O₆ + 6O₂ ----------- 6CO₂ + 6H₂O + 686 Kcal

শ্বসনের স্থান ও শ্বসনের সময়

প্রতিটি সজীব কোষে শ্বসন দিনরাত ঘটে। শ্বসনের প্রথম পর্যায় অর্থাৎ গ্লাইকোলাইসিস প্রক্রিয়া কোষের সাইটোপ্লাজমে ঘটে এবং দ্বিতীয় পর্যায় অর্থাৎ ক্রেবস চক্র কোষের কোষ- অঙ্গাণু মাইটোকন্ড্রিয়ায় ঘটে। শ্বসনের অধিকাংশ রাসায়নিক বিক্রিয়াগুলি মাইটোকন্ড্রিয়াতে ঘটায় মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের শক্তিঘর বলে। শ্বসনের সময় প্রচুর পরিমাণে ATP (38 অণু) উৎপন্ন হয়—যার মধ্যে শক্তি সঞ্চিত থাকে। ATP-র মধ্যে শক্তি সঞ্চিত থাকায় ATP-কে এনার্জি কারেন্সি শক্তির ভাণ্ডার বলে।

শ্বসনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

শ্বসনের স্থান ---> সজীব কোষ
শ্বসনের সময়    ---> দিবারাত্রি
শ্বসন অঙ্গাণু    ---> মাইটোকনড্রিয়া
শ্বসন বস্তু     ---> গ্লুকোজ
গ্লাইকোলাইসিস     --> কোষের সাইটোপ্লাজম
ক্রেবস চক্র       ---> মাইট্রোকন্ডিয়া
প্রধান শ্বাস রঞ্জক ----> হিমোগ্লোবিন ও হিমোসায়ানিন

শ্বসন বস্তু কাকে বলে? শ্বসন বস্তু কত প্রকার ও কি কি?

যেসব প্রােটোপ্লাজমীয় বস্তু শ্বসনের সময় জারিত হয় তাদের শ্বসনবস্তু বলে। সরল শর্করা গ্লুকোজই হল প্রধান শ্বসনবস্তু। গ্লুকোজই শ্বসনের আরম্ভ বিন্দু (Starting point)।
শ্বসন বস্তু দুই প্রকার, যথা-
(i) ভাসমান শ্বসন (Floating Respiration)
(ii) প্রােটোপ্লাজমীয় শ্বসন (Protoplasmic Respiration)
ভাসমান শ্বসন কাকে বলে?
যে শ্বসনে কেবল গ্লুকোজ শ্বসনবস্তু হিসেবে ব্যবহৃত হয় তাকে ভাসমান শ্বসন বলে।
প্রােটোপ্লাজমীয় শ্বসন কাকে বলে?
যে শ্বসনে স্নেহবস্তু বা প্রােটিন শ্বসনবস্তু হিসেবে ব্যবহৃত হয় তাকে প্রােটোপ্লাজমীয় শ্বসন বলে।

শ্বসনের অনুপাত (Respiratory Quotient or RQ)

শ্বসনকালে নির্গত কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্যাসের ঘনমান এবং গৃহীত অক্সিজেন গ্যাসের ঘনমানের অনুপাতকে শ্বসন অনুপাত বা RQ বলে। RQ-এর মান থেকে শ্বসনবস্তু ও শ্বসনের প্রকৃতি সম্বন্ধে ধারণা করা যায়।
RQ = 6CO₂/6O₂ = 1

শ্বসনের প্রকারভেদ

জীবদেহে প্রধানত দুই রকমের শ্বসন দেখা যায় যথা-

শ্বসনের গুরুত্ব বা শ্বসনের তাৎপর্য

জীবদেহে শ্বসনের গুরুত্ব বা তাৎপর্য গুলি হল -
1. শক্তির মুক্তি (Release of energy): সালােকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় সৌরশক্তি খাদ্যের মধ্যে স্থৈতিকশক্তি রূপে আবদ্ধ হয়। শ্বসনকালে ওই শক্তি তাপশক্তি রূপে মুক্ত হয়। ফলে জীবের যাবতীয় জৈবিক ক্রিয়াগুলি—পুষ্টি, বৃদ্ধি, রেচন, জনন, চলন ও গমন নিয়ন্ত্রিত হয়। একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির প্রতিদিন 2500-3000 kcal শক্তির প্রয়ােজন হয় যা শ্বসন ক্রিয়ায় উৎপন্ন হয়।
2. শক্তির রূপান্তর (Transformation of energy): শ্বসন প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন শক্তি থেকে প্রশ্ন শােণিতবিশিষ্ট প্রাণীদের দেহ গরম থাকে। জোনাকি আলাে দেয়, ইলেকট্রিক রে মাছ দেহে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে এই ঘটনাগুলি শ্বসনে উৎপন্ন শক্তির রূপান্তর মাত্র।
3. অক্সিজেন ও কার্বন ডাইঅক্সাইডের ভারসাম্য: সালােকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় CO₂ গৃহীত হয় এবং O₂ নির্গত হয়। ফলে বায়ুর CO2-এর পরিমাণ কমে যায় এবং O₂-এর পরিমাণ বেড়ে যায়। শ্বসন প্রক্রিয়ার সময় O₂ গৃহীত হয়ে এবং CO₂ বর্জিত হয়ে পরিবেশে উক্ত গ্যাস দুটির সমতা বজায় থাকে।

শ্বসনের কাজ

শ্বসন প্রক্রিয়ায় মাধ্যমে জীবদেহে যে কাজগুলো সম্পন্ন হয় যথা-
1. শ্বাসবায়ুর আদানপ্রদানঃ শ্বসনের সময় প্রতিটি জীবকোশে অক্সিজেন পৌছােয় এবং শ্বসনজাত কার্বন ডাইঅক্সাইড দূরীভূত হয়।
2. শােষণঃ ফুসফুসের মাধ্যমে O₂ এবং CO₂ ছাড়াও বিভিন্ন গ্যাসীয় পদার্থ (যেমন—CO, NO ইত্যাদি) প্রাণীদেহে শােষিত হয়।
3. রেচনঃ শ্বসন প্রক্রিয়ায় অ্যামােনিয়া, কিটোন বডি, অ্যালকোহল, তেল, জলীয় বাষ্প প্রভৃতি বিভিন্ন অপ্রয়ােজনীয় উদ্বায়ী পদার্থ দেহমুক্ত হয়।
4. অম্লত্ব ও ক্ষারত্বের ভারসাম্য রক্ষাঃ দেহ থেকে কার্বন ডাইঅক্সাইড পরিত্যাগ হওয়ায় দেহকোশে অম্লত্ব ও ক্ষারত্বের ভারসাম্য রক্ষা হয়।
5. জলের ভারসাম্য রক্ষাঃ শ্বসন প্রক্রিয়ায় দেহ থেকে অতিরিক্ত জলীয় বাষ্প বেরিয়ে যাওয়ায় দেহে জলের ভারসাম্য বজায় থাকে।
6. উষ্ণতার ভারসাম্য রক্ষাঃ নিশ্বাসের সঙ্গে কিছু পরিমাণ তাপ দেহমুক্ত হয়, ফলে দেহে তাপের ভারসাম্য বজায় থাকে।
7. প্রকৃতিতে O₂, CO₂ ভারসাম্য রক্ষাঃ শ্বসনে উৎপন্ন CO₂ সালােকসংশ্লেষে ব্যবহৃত হয়। আবার সালােকসংশ্লেষে উৎপন্ন O₂ শ্বসনে ব্যবহৃত হয়। এইভাবে প্রকৃতিতে O₂ , CO₂ -এর ভারসাম্য রক্ষিত হয়।

শ্বসনের পদ্ধতি

শ্বসন বিক্রিয়া গুলি দুটি পর্যায়ে ঘটে যথা-
1. গ্লাইকোলাইসিস এবং
2. ক্রেবস চক্র

শ্বসনের নিয়ন্ত্রণকারী প্রভাবক বা শ্বসন নিয়ন্ত্রক শর্তসমূহ

অন্যান্য শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় মত শ্বসন নিয়ন্ত্রক শর্তসমূহ বা প্রভাবক দুই প্রকারের যথাক্রমে-
1. বাহ্যিক প্রভাবক বা বাহ্যিক শর্তাবলী
2. অভ্যন্তরীণ প্রভাবক বা অভ্যন্তরীণ শর্তাবলী
শ্বসনের বহ্যিক প্রভাবক গুলি হল তাপমাত্রা, আলোক, অক্সিজেন, কার্বন ডাই অক্সাইড, জল, অজৈব লবণ, জৈব পদার্থ, ক্ষত।
শ্বসনের অভ্যন্তরীণ প্রভাবক গুলি হল প্রোটোপ্লাজমীয় অবস্থা, শ্বসন বস্তু, উৎসেচক

শ্বসনকে অপচিতি বিপাক বলে কেন?

শ্বসনের ফলে কোশস্থিত জৈববস্তু জারিত হয়ে শক্তি, জল ও কার্বন ডাইঅক্সাইড নির্গত হয়, জীবদেহের শুষ্ক ওজন হ্রাস পায়, তাই শ্বসনকে অপচিতি বিপাক বলে।

শ্বসনকে শক্তিমােচী প্রক্রিয়া বলে কেন?

শ্বসন প্রক্রিয়ায় শ্বসনবস্তু জারিত হয়ে উচ্চশক্তি সম্পন্ন ATP যৌগ উৎপন্ন হয় এবং শক্তির মােচন ঘটে। তাই শ্বসনকে শক্তিমােচী বা তাপমােচী প্রক্রিয়া বলে।

কেশীয় শ্বসন কাকে বলে?

কোশ মধ্যস্থ জৈব বস্তুর উৎসেচক বিক্রিয়া মাধ্যমে পর্যায়ক্রমিক জারণ ও শক্তি উৎপাদন পদ্ধতিকে কোশীয় শ্বসন বলে। যথা—গ্লাইকোলাইসিস, ক্রেবস্ চক্র ইত্যাদি।

শ্বসন প্রশ্ন উত্তর

1. শ্বসন কোথায় হয়? 
উঃ প্রতিটি সজীব কোষে শ্বসন ঘটে।
2. শ্বসন কখন হয়? 
উঃ দিবারাত্রি।
3. কোন্ কোষ অঙ্গাণুর মধ্যে শ্বসন ক্রিয়াটি (বা ক্রেবস্ চক্রটি) সম্পন্ন হয়? 
উঃ মাইট্রোকন্ডিয়া।
4. বায়ুশূন্য স্থানে শ্বাসকার্য চালাতে পারে এমন দুটি জীবের উদাহরণ দাও।
উঃ মনোসিস্টিস, গোলকৃমি, ফিতাকৃমি।
5. কন উদ্ভিদ এবং প্রাণিদেহে অবাত শ্বসন ঘটে?
উঃ ঈস্ট, মনোসিস্টিস
6. কোন্ ব্যাটিরিয়ার দেহে অবাত শ্বসন ঘটে? 
উঃ ডিনাইট্রিফাইং ব্যাকটেরিয়া, মিথেন ব্যাকটেরিয়া।
7. কোহল সন্ধান কোন প্রকার জীবাণু দ্বারা ঘটে?
উঃ ঈস্টের দ্বারা‌
৪. কোহল সন্ধানে কোন উৎসেচক অংশগ্রহণ করে? 
উঃ জাইমেজ।
9. অবাত শ্বসনের ফলে উদ্ভিদ ও প্রাণিকোষে কি কি উৎপন্ন হয় ? 
উঃ উদ্ভিদকোষে ইথাইল অ্যালকোহল (C₂H₅OH) ও কার্বন ডাই-অক্সাইড উৎপন্ন হয় আর প্রাণীকোষে ল্যাকটিক অ্যাসিড
10. উন্নত প্রাণিদেহে কোথায় এবং কখন অবাত শ্বসন ঘটে? 
উঃ মনোসিস্টিস, গোলকৃমি ফিতাকৃমি প্রাণীদের দেহে অবাত শ্বসন ঘটে।
11. সবাত ও অবাত শ্বসনের সাধারণ পর্যায়টি কি? 
উঃ সবাত ও অবাত শ্বসনের সাধারণ পর্যায়টি হল গ্লাইকোলাইসিস।
12. সবাত শ্বসনের পর্যায় দুটি কি কি? 
উঃ সবাত শ্বসনের পর্যায় দুটি হল সবাত শ্বসনের প্রথম পর্যায়টি কি হলো গ্লাইকোলাইসিস এবং দ্বিতীয় পর্যায়টি হল ক্রেবস চক্র।
13. শ্বসন কার্যের পর্যায় দুটি কি কি? 
উঃ গ্লাইকোলাইসিস, ক্রেবস-চক্র
14. গ্লাইকোলাইসিস এবং ক্রেবস্ চক্রে কত অণু করে A.T.P. উৎপন্ন হয় ? 
উঃ গ্লাইকোলাইসিস 2 অণু A.T.P. উৎপন্ন হয় এবং ক্রেবস্ চক্রে 30 অণু করে A.T.P. উৎপন্ন হয়।
15. শ্বসন কিরূপ বিপাক ? 
উঃ শ্বসন একটি অপচিতি বিপাক।
16. উদ্ভিদদেহে শ্বসনের বিপরীত জৈবিক ক্রিয়াটি কি? 
উঃ সালোকসংশ্লেষ।
17. কোন প্রাণীরা দেহের সমস্ত তল দিয়ে গ্যাসীয় আদান-প্রদান করে? 
উঃ অ্যামিবা, স্পঞ্জ, হাইড্রা।
18. উন্নত শ্রেণীর উদ্ভিদরা বায়ু থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে কোন কোষ-অঙ্গের মাধ্যমে?
উঃ শ্বাসমূল বা নাসিকামূলের মাধ্যমে।
19. এমন দুটি প্রাণীর নাম কর যারা ফুলকার সাহায্যে শ্বাসকার্য চালায়।
উঃ মাছ, শামুক, মাগুর
20. এমন দুটি প্রাণীর নাম কর যারা বায়ুনালী বা ট্রাকিয়ার সাহায্যে শ্বাসকার্য চালায়। 
উঃ আরশোলা, প্রজাপতি, ফড়িং
21. পতঙ্গদের কত জোড়া শ্বাসছিদ্র বা স্পিরাকল থাকে?
উঃ পতঙ্গদের 10 জোড়া শ্বাসছিদ্র বা স্পিরাকল থাকে।
22. ফুসফুস বই কোন প্রাণীর শ্বাস অঙ্গ? 
উঃ মাকড়সা ও কাঁকড়াবিছে এদের শ্বাস অঙ্গের নাম বুক লাঙ বা বই ফুসফুস।
23. অতিরিক্ত শ্বাস অঙ্গবিশিষ্ট দুটি প্রাণীর নাম কি? 
উঃ কই, মাগুর, শিঙি
24. কৈ মাছ কি কারণে ডাঙ্গায় অনেকক্ষণ বেঁচে থাকে? 
উঃ কই মাছের অতিরিক্ত শ্বাসযন্ত্র থাকার জন্য এরা অনেকক্ষণ ডাঙায় বেঁচে থাকে।
25. মানুষের শ্বাস বায়ুর আদান-প্রদান কোথায় ঘটে?
উঃ ফুসফুস।
26. ফুসফুসের আবরণীর নাম কি? 
উঃ ফুসফুসের আবরণীর নাম প্লুরা।
27.প্লুরার স্তর দুটি কি কি ? 
উঃ প্লুরার স্তর দুটি হল প্লুরা ভিসেরাল স্তর ও প্যারাইটাল স্তর ।
28. এয়ারস্যাক কোন প্রাণীর ফুসফুসে থাকে?
উঃ পায়রা, বাজ, চিল ইত্যাদি উড়ন্ত পাখিদের ফুসফুসের সঙ্গে নয়টি বায়ু থলি বা এয়ারস্যাক থাকে।
29. কোন যৌগ গঠন করে রক্তে অক্সিজেন পরিবাহিত হয়? 
উঃ অক্সিহিমোগ্লোবিন যৌগ গঠিত হয় রক্তে অক্সিজেন পরিবাহিত হয়।
30. কোন যৌগ গঠিত হলে রক্তে কার্বন ডাই অক্সাইড পরিবাহিত হয়? 
উঃ রক্তে সাধারণত সোডিয়াম বাই কার্বনেট, পটাসিয়াম বাইকার্বনেট, কার্বো অ্যামাইনো হিমোগ্লোবিন, কার্বো অ্যামাইনো প্রোটিন এবং ভৌত দ্রবণ কার্বনিক অ্যাসিড রক্তে যৌগ রূপে কার্বন-ডাই-অক্সাইড প্রবাহিত হয় ‌‌।
31. মানুষের দুটি শ্বাস পেশীর উদাহরণ দাও।
উঃ মানুষের দুটি শ্বাস পেশী হল মধ্যচ্ছদা বা ডায়াফ্রাম ও পঞ্জরমধ্যস্থ পেশী বা ইন্টারকস্টাল পেশী।
32. শ্বাস বায়ুতে অক্সিজেন এবং CO₂-এর পরিমাণ কত?
উঃ শ্বাস বায়ুতে অক্সিজেনের পরিমাণ 20.94% এবং শ্বাস বায়ুতে CO₂-এর পরিমাণ 0.03%
33. নিঃশ্বাস বায়ুতে O₂ এবং CO₂-এর পরিমাণ কত? 
উঃ নিঃশ্বাস বায়ুতে অক্সিজেনের পরিমাণ 16.3% এবং  নিঃশ্বাস বায়ুতে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ 4.0%.
34. বায়ুমণ্ডলে O₂ এবং CO₂-এর পরিমাণ কত?
উঃ বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেনের পরিমাণ 20.95% এবং কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ 0.03%
35. উদ্ভিদের কোন কোন জৈবিক ক্রিয়ার মাধ্যমে বায়ুমণ্ডলের O₂ এবং CO₂-এর সমতা বজায় থাকে?
উঃ সালোকসংশ্লেষ এবং শ্বসন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বায়ুমণ্ডলের O₂ এবং CO₂-এর সমতা বজায় থাকে।
36. শ্বসন বস্তু কাকে বলে? 
উঃ শ্বসনকালে সজীব কোষে যে সমস্ত বস্তু জারিত হয়ে শক্তি উৎপন্ন করে তাদের শ্বসন বস্তু বলে।
37. সবাত শ্বসনের ফলে উৎপন্ন পদার্থগুলি কি কি? 
উঃ কার্বন ডাই অক্সাইড, জল এবং শক্তি
38. অবাত শ্বসনের ফলে উৎপন্ন পদার্থগুলি কি কি? 
উঃ জল, কার্বন-ডাই-অক্সাইড, নাইট্রাইট যোগ এবং শক্তি
39. শ্বসন প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন শক্তিকে কি বলে? 
উঃ শ্বসন বস্তু বলে।
40. P.Q. কি? 
উঃ সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় নির্গত অক্সিজেন এবং গৃহীত কার্বন-ডাই-অক্সাইডের ঘনমানের অনুপাতকে P.Q বা ফটোসিন্হেটিক কোসেন্ট বা সালোকসংশ্লেষীয় অনুপাত বলে। যথা-
P.Q= 6O₂/6CO₂= 1
41. R.Q কি?
উঃ শ্বসনকালে দেহে জারণ ক্রিয়ার নির্গত কার্বন ডাই অক্সাইড এবং গৃহীত অক্সিজেন এর ঘনমানের অনুপাতকে Respiratory Quotient বা শ্বসন অনুপাত বলে।
42. ক্রেবস্ চক্রে সহায়ককারী একটি উৎসেচকের উদাহরণ দাও। 
উঃ কো-এনজাইম-A, অ্যাকোনাইটেজ, কার্বক্সাইলেজ, ফিউম্যারেজ ইত্যাদি।
43. ক্রেবস চক্রকে সাইট্রিক অ্যাসিড চক্র বলে কেন? 
উঃ ক্রেবস চক্রে প্রথম উৎপাদিত যৌগ সাইট্রিক অ্যাসিড বলে এই চক্রকে সাইট্রিক অ্যাসিড চক্র বলে।
44. গ্লাইকোলাইসিস সহায়ককারী একটি উৎসেচকের উদাহরণ দাও। 
উঃ ADP, ATP, NADH
45. শ্বসন নিয়ন্ত্রণকারী একটি বাহ্যিক ও একটি আভ্যন্তরীণ প্রভাবকের উদাহরণ দাও। 
উঃ শ্বসন নিয়ন্ত্রণকারী  বাহ্যিক প্রভাবক গুলি হল
অক্সিজেন, কার্বন-ডাই-অক্সাইড ও উষ্ণতা।
শ্বসন নিয়ন্ত্রণকারী আভ্যন্তরীণ প্রভাবক গুলি হল খাদ্য ও প্রোটোপ্লাজমের অবস্থা।
46. প্রাণিদের শ্বসনে সহায়ককারী দুটি অঙ্গের নাম কি? 
উঃ ফুলকা , ফুসফুস।
47. এমন একটি জলজ প্রাণীর উদাহরণ দাও যাকে সরাসরি বায়ুর অক্সিজেন গ্রহণ করতে হয়।
উঃ মাগুর, শিঙি
48. এমন একটি প্রাণীর উদাহরণ দাও সে স্থলজ ও জলজ উভয় পরিবেশেই শ্বাসকার্য চালাতে পারে।
উঃ ব্যাঙ, কুমির ইত্যাদি।
49. ব্যাঙাচির শ্বাস অঙ্গের নাম কি? 
উঃ বহিঃফুলকা।
50. কোন্ প্রাণীর সিক্ত চামড়া শ্বাসকার্যে অংশগ্রহণ করে ? 
উঃ কেঁচো, জোঁক
51. গলবিলের মিউকাস পর্দা কোন প্রাণীর শ্বসনে সাহায্য করে? 
উঃ ব্যাঙ
52. একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ মিনিটে কতবার শ্বাসকার্য চালায়? 
উঃ একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ মিনিটে 14-18 বার শ্বাসকার্য চালায়।
53. ভােকাল কর্ড কোথায় অবস্থিত? এর কাজ কি? 
উঃ গলায় অবস্থিত ল্যারিংস বা বাগযন্ত্রের মধ্যে দুটি ভোকাল কর্ড থাকে।
ভোকাল কর্ডের কাজ হল স্বর সৃষ্টি করা।
54. এক গ্রাম মােল গ্লুকোজ জারিত হলে কত ক্যালরি তাপশক্তি উৎপন্ন হয় ?
উঃ 686 ক্যালরি তাপশক্তি উৎপন্ন হয়।
55. শ্বসনে মোট কত অনু এটিপি উৎপন্ন হয়?
উঃ শ্বসনে মোট 38 অনু এটিপি উৎপন্ন হয়।

আরো পড়ুন-
4. ক্রেবস চক্র কাকে বলে?
6. সালোকসংশ্লেষণ ও শ্বসনের পার্থক্য লেখ।
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url